
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সুসংগঠিত মানবপাচার চক্রের ভয়াবহ চিত্র। এই চক্রটি শুধু উপকূলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শুরু করে বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের বক্তব্যে চক্রটির ভেতরের স্তরভিত্তিক কার্যক্রমের তথ্যও সামনে এসেছে।
এই দুর্ঘটনায় এখনো প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তাদের কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রশাসনের কাছে নেই এবং এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে ট্রলারে তোলা হয়। ক্যাম্পভিত্তিক দালাল ছাড়াও গ্রাম পর্যায়ে রয়েছে আলাদা নেটওয়ার্ক, যারা উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান, কাজের প্রলোভনে তাকে ট্রলারে তোলা হয় এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যদের অভিযোগ, ট্রলারে থাকা দালালরা যাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাত।
বিশ্বাসযোগ্য’ যাত্রীই পরে দালাল
স্থানীয়দের মতে, আগে একাধিকবার এই পথে যাওয়া ব্যক্তিদেরই পরে দালাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে নতুন যাত্রীরা তাদের ওপর সহজেই আস্থা রাখে এবং ফাঁদে পড়ে।
এই যাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই ছিলেন পারিবারিক নির্যাতন, দারিদ্র্য বা অনিশ্চয়তায় ভোগা মানুষ। বিশেষ করে নারীরা প্রতারণার শিকার হয়ে বিপজ্জনক এই পথে পা বাড়াচ্ছেন।
বেঁচে ফেরা একজন জানান, প্রায় ২৮০ জনকে নিয়ে ট্রলারটি যাত্রা করে। উত্তাল সাগরে যাত্রীদের সংকীর্ণ কক্ষে ঢুকিয়ে রাখা হয়, যেখানে শ্বাস নেওয়ার সুযোগও ছিল না। এতে বহু মানুষ সেখানেই মারা যান। পরে বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।