
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ব্যাংক খাতে ঋণসীমা বাড়িয়ে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ সিদ্ধান্তে মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নীতিমালায় একক গ্রাহকের ঋণসীমা বাড়িয়ে ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের সীমা শিথিলসহ বড় অংকের ঋণ বিতরণে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এতে বড় গ্রাহকেরা আগের চেয়ে বেশি ঋণ নিতে পারবেন।
বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন মনে করেন, ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তার ভাষায়, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে প্রভাবশালী গোষ্ঠীই বেশি সুবিধা নেবে, ফলে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ব্যাংকাররাও বলছেন, মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণে থাকা ব্যাংকগুলোকে এই সুবিধা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাবেক এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ভালো আর্থিক অবস্থানে থাকা ব্যাংক ও নির্ভরযোগ্য গ্রাহকদের জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত ছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রসারণমূলক নীতির দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা করছেন তারা।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। তার মতে, অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাময়িকভাবে কিছু ঝুঁকি নেওয়া হলেও পরে তা সমন্বয় করা সম্ভব হবে।