নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোতে তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—দুই দলেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিএনপিতে সংরক্ষিত নারী আসনপ্রত্যাশীদের যোগাযোগ ও প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কাজের বিবরণ তুলে ধরে প্রোফাইল তৈরি করে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠাচ্ছেন।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঈদের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটি আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টির মধ্যে ৩৫টি নারী আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি আসন। বাকি আসনগুলো স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টিত হবে।
বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান ও সাবেক নেত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নারী নেত্রীরাও রয়েছেন। এবার নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলটি জানিয়েছে, মহিলা বিভাগের পরামর্শে শিক্ষিত ও পেশাজীবী নারীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসাবে এখনো দলগুলোর হাতে সময় থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে।
সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে জাতীয় সংসদ–এ নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জন, যা মোট সংসদের প্রায় ১৬ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts