নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি ও তদারকির ঘাটতির কারণে সরকারের বিপুল রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বেনাপোল দিয়ে ৬৮ হাজার ৮৬টি ট্রাকে প্রায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য।
এর আগের অর্থবছরগুলোতে পণ্যের পরিমাণ আরও বেশি ছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এক লাখ ৪৩ হাজারের বেশি ট্রাকে প্রায় ২৪ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি–রপ্তানি হয়। আর ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন।
কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পণ্যের মূল্য কম দেখানো, উচ্চ শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের নামে ঘোষণা করা এবং বিভিন্ন উপায়ে শুল্কায়ন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাই রাজস্ব ঘাটতির বড় কারণ। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে পণ্য ঘোষণা ছাড়া খালাসের অভিযোগও রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা আমদানিকারকদের বেশি শুল্কের ভয় দেখিয়ে পরে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে শুল্ক কমিয়ে দেন। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, অনেক সময় অযৌক্তিক শুল্কের আশঙ্কা দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কম শুল্কে পণ্য ছাড় দেওয়া হয়, যা সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।
সম্প্রতি বন্দরে কয়েকটি অনিয়মের ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টস ঘোষণায় আনা একটি চালানে অতিরিক্ত প্রায় তিন টন পণ্য ধরা পড়ে। পরে কাস্টমস অতিরিক্ত প্রায় ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় আড়াই কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রিপিসের একটি চালান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। পরে বিজিবি অভিযান চালিয়ে সেই চালান আটক করে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, স্ক্যানার ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা হয় না। ফলে পণ্য যাচাই–বাছাইয়ে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিথ্যা ঘোষণার বেশ কিছু চালান জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে বলেও জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts