নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর–৪ (অভয়নগর–বাঘারপাড়া–বসুন্দিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আটজন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ভোটের হার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জমাকৃত জামানত হারিয়েছেন। ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. গোলাম রছুল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয় এবং মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট অর্জন না করলে সেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
যশোর–৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০ জন। এই হিসাবে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪১ হাজার ৪২২ ভোট।
নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যেসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী বায়েজীদ হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, গণঅধিকার পরিষদের মো. আবুল কালাম গাজী, জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল হক এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল।
বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় এই ছয় প্রার্থীর জামানত বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যশোর–৪ আসনের ফলাফল আবারও প্রমাণ করেছে—প্রতিদ্বন্দ্বী যত বেশি হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts