
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
অভাব, সামাজিক লাঞ্ছনা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার পেরিয়ে নতুন জীবনের পথে হাঁটছেন ময়মনসিংহের পাঁচ কিশোরী ও তরুণী। ‘স্বপ্নবুনন ফ্যাশন অ্যান্ড টেইলার্স’ নামের একটি বিশেষ কর্মসংস্থান উদ্যোগ তাদের জীবনে এনে দিয়েছে নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ।
ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে অবস্থিত এই কর্মসংস্থান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেউ সেলাই করছেন নিপুণ হাতে, কেউ ব্যস্ত ব্লক-বাটিক ও নকশার কাজে। কারও দায়িত্ব বিক্রয়কেন্দ্রে। কাপড়ের সুতোয় যেমন নকশা ফুটে উঠছে, তেমনি বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনের গল্পও।
শিশু যৌন পাচার ও বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা নারীদের সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও প্রবেশন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ‘শাপলা মহিলা সংস্থা’।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে টেইলারিং সেবা ছাড়াও ব্লক-বাটিক ও এমব্রয়ডারি পোশাক, নারীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, কসমেটিকস, লন্ড্রি ও রিপু করার সুবিধা রয়েছে। ন্যায্য মূল্যে পণ্য ও সেবা পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
‘স্বপ্নবুনন’-এ যুক্ত পাঁচ নারীর মধ্যে দুজন এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাকিদের বয়স ২০ এর কোঠায়। দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক হয়রানির কারণে তারা একসময় চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন।
এক তরুণী বলেন,
“বাইরে বের হলেই নানা প্রলোভন আর কটু কথার মুখে পড়তে হতো। এখন অন্তত একটি নিরাপদ জায়গা পেয়েছি, যেখানে শান্তিতে কাজ করতে পারি।”
আরেকজন জানান,
“রাতে কাজ করতে গিয়ে ভয় লাগত। এখন মনে হচ্ছে, নিজের জীবনটা নতুন করে সাজাতে পারব।”
প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাহরিন সুলতানা নীলা বলেন, এই নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ নয়, আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে এই নারীরা সমাজে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে পারবেন। প্রয়োজনে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
দীর্ঘদিনের অন্ধকার জীবন পেছনে ফেলে এখন তারা দেখছেন নতুন দিনের স্বপ্ন—নিজেদের হাতে গড়া এক আলোকিত ভবিষ্যৎ।