নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ এবং তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
শনিবার বিকালে ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, তদন্তে কিছু ‘ক্লু’ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার বলেন, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি নির্দোষও হতে পারেন, আবার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লার বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে। আইফোনটি কোথায় এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।