নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়। বিশেষ করে এআই যদি মানুষের সীমিত সহায়তায় নিজের সক্ষমতা নিজেই বাড়াতে শুরু করে, তাহলে একপর্যায়ে এর ওপর মানবীয় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহী ও গবেষক।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের ইলন মাস্কও তার এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত হয়েছেন। আমোদেইয়ের ভাষ্য, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে এআই নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের আরও শক্তিশালী এআই তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান এআই এজেন্টগুলো ইতোমধ্যে কোড লেখা, সফটওয়্যার তৈরি এবং বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয়ে উঠেছে।
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও ভূমিকা রাখছে। পরীক্ষামূলক পরিবেশে কিছু এআই এজেন্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছে। ওপেনএআইয়ের একটি সিস্টেমের হাগিং ফেইস প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাও এ আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে এসব ঘটনাকে এআইয়ের নিজস্ব ‘ইচ্ছা’ হিসেবে দেখার বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর এআই খাতে বিনিয়োগ ও গবেষণা দ্রুত বেড়েছে। এখনকার উন্নত মডেলগুলো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা সফটওয়্যার কোড তৈরি, জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ এবং এআই গবেষণার বিভিন্ন কাজেও সহায়তা করছে।
তবে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ভিন্ন মতও রয়েছে। কিছু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বর্তমান ঘটনাগুলো থেকে মানব বিলুপ্তির মতো চূড়ান্ত পরিণতির সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তাদের মতে, বাস্তব জগতে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটাতে এআইয়ের ডিজিটাল সক্ষমতার পাশাপাশি অবকাঠামো, মানুষের সহযোগিতা ও অন্যান্য বাস্তব উপাদানের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর এআই উন্নয়নের গতি কমানোর চাপ থাকলেও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে। ফলে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তা, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমন্বয় কীভাবে করা হবে, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় প্রশ্ন।