নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
কক্সবাজারে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিকদের একটি সংঘবদ্ধ দলের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ থেকে ৩০০ বিদেশি নাগরিককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ আগস্ট রামুর হিমছড়ি এলাকায় একটি রিসোর্টে অভিযান চালানোর পর দলের অনেক সদস্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। তাদের একটি অংশ কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রামু থানার ওসি এ কে ফজুল হক জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিকদের অনেকে গত মার্চ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর এপ্রিল মাস থেকে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্ট ভাড়া নিতে শুরু করেন।
তদন্তে কক্সবাজার শহরের অন্তত তিনটি হোটেলে দলবদ্ধভাবে চীনা নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য মিলেছে। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন হোটেলে একাধিক বিদেশি দলের আসা-যাওয়া ছিল বলেও জানা গেছে। তবে সেখানে অবস্থানকারী সবাই একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামুর হিমছড়ি ও উখিয়ার ইনানী-মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কয়েকটি রিসোর্ট ও আবাসিক স্থাপনায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। তাদের কয়েকজন দীর্ঘ সময় ধরে রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে সেখানকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হিমছড়ির একটি রিসোর্টে অভিযানের সময় একটি বড় হলরুমে কম্পিউটার ল্যাব ও সাউন্ডপ্রুফ কক্ষের সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকে এক হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া চীনা পুলিশের র্যাংক ব্যাজ, পুলিশ লোগোযুক্ত টাই এবং চীনের জাতীয় পতাকাও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানের খবর পেয়ে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রিসোর্টের পেছনের সৈকত এলাকা দিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
মামলার নথিতে এই চক্রের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ভুয়া প্রোফাইল এবং নকল বা ক্লোন করা ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতারণার ধরন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ নির্মাণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কথা বলে রিসোর্ট ভাড়া নিয়েছিল। তবে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের পাশাপাশি ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ ঝিপিং ও জিয়ান ঝাং নামে আরও চারজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।