দনিজস্ব প্রতিবেদক।।
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ব্যবস্থা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে। তবে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরিতে সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।
সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন-ভাতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে গণমাধ্যম। আর জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠলে গণমাধ্যমের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts