নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাকসুর নেতাকর্মী ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস ও মাহমুদুল হাসানের নাম জানা গেছে। অপর আহত শিক্ষার্থীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাকসু নেতাদের দাবি, এর আগে রাকসু কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। তাদের ভাষ্য, রাকসু কার্যালয়ে হামলার পর আনাস ও তার সহযোগীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে তাদের মারধর করা হয়।
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী রাকসু কার্যালয়ে বৈঠক করার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব আহত হন। পরে হামলাকারীরা লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, শিবিরের পরিচয়ে তারা সেখানে যায়নি; রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখতে পান।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে ঢুকে মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার রাতে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই শিক্ষার্থী অস্ত্রের মুখে প্রেমে রাজি করানোর চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে গেলে সেখানে আনাসসহ কয়েকজন উপস্থিত হন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের একপর্যায়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা এবং পরে লাইব্রেরির রিডিং রুমে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও উপাচার্যের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।