নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রায় এক মাসে গড়িয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ জুলাই উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অধ্যাপক সায়েম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায়, ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলন শুরু করেন। পরদিন থেকে শুরু হয় লাগাতার শাটডাউন কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীদের দাবি, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের পথ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর এসব পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারত বলে মনে করেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. মইনুল ইসলামও জানান, সায়েমের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বাড়াতে তাঁর যোগাযোগ কাজে আসতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারায় অনলাইনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। শিক্ষকরা ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অধ্যাপক সায়েমকে কেন দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সম্ভাবনার কথা বললেও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে গত ১৯ অক্টোবর ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণে কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির এক নেতা।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সংকট নিরসনের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের। তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে টার্ম শেষ না হলে শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা সম্মত হলে পরবর্তী ছুটির সময় সমন্বয় করে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

চুয়েটের এই সংকট এখন শুধু উপাচার্য নিয়োগের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts