নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি বিলীন হয়েছে এক পরিবারের পূর্বপুরুষের কবরও। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া এলাকায় মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবরটি নদীগর্ভে চলে গেছে।
পরিবারের সদস্য জীবন মোল্লা জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে কবরটি তাদের পরিবারের কাছে স্মৃতি ও আবেগের জায়গা ছিল। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে সেই কবরটিও এখন আর নেই।
স্থানীয়দের দাবি, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক বছর ধরে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত চার-পাঁচ বছরে প্রায় দুই হাজার বসতবাড়ি এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চলতি বর্ষায় হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, জয়পুর ও হালুয়াঘাট এলাকায় শতাধিক বাড়ি নদীতে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙনের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
নদীভাঙনে শুধু ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি নয়, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও স্বজনদের কবরও। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং বাজারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদীতীর রক্ষায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পদ্মার ভাঙনে তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বড় একটি অংশ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেন দ্রুত নদীতীরে বস্তা ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চরাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাকে নদীভাঙনের বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।