নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় পাঁচ শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলার আগে নিজের দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে স্কুলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সে।
শুক্রবার সকালে ননথাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রায় ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে হামলার পর তারও মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি সে আত্মহত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, স্কুলে যাওয়ার আগে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি তার দাদার বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই ব্যক্তি পেশায় শিক্ষক ছিলেন।
স্কুলে ঢোকার পর হামলাকারী গুলি চালালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পুলিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার কক্ষে হামলাকারীর অবস্থান শনাক্ত করে। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আহতদের উদ্ধার ও ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
হামলার ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেছেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা ও বহনে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটেছে।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৮৮৫ সালে দেশটির রাজা চুলালংকরনের সময়ে এর মূল শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়।