নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী তিথিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং পূজামণ্ডপে এ আয়োজন করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় সাজানো আসনে এক শিশুকন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে অধিষ্ঠিত করে ধর্মীয় রীতিতে পূজা করা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও স্তোত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে মিশন প্রাঙ্গণ। দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় ভক্তরা দেবীর উদ্দেশে অঞ্জলি নিবেদন করেন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে নারীর মধ্যে নিহিত মাতৃশক্তি, পবিত্রতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই আচার নারীর মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পূজার প্রচলন সুসংহত করেন বলে প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এরপর থেকে ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে বিভিন্ন স্থানে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এদিকে মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ১০৮টি প্রদীপ ও পদ্মফুল দিয়ে সন্ধিপূজাও অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনে ভক্তরা অংশ নেন ধর্মীয় নিষ্ঠার সঙ্গে।
পূজার সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী পালিত হবে। পরদিন বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।