নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
মেসের কক্ষ থেকে জবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, হতাশার কথা জানালে সহপাঠীরা
ঢাকার পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বি কে গাঙ্গুলি লেনের একটি ভবনের চতুর্থ তলার মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন সহপাঠীরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে। তার পরিবার বর্তমানে সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
সহপাঠী ও মেসসঙ্গীদের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে অনিকের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। পারিবারিক ও আর্থিক নানা সমস্যার পাশাপাশি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর তিনি আরও চুপচাপ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান মেসসঙ্গী জয় ভূঁইয়া।
জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে এক সহপাঠী ফোন করেও তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে তারা অনিকের কক্ষে গিয়ে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।
দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হলে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে দরজা খুলে অনিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বংশাল থানার ওসি আশিক ইকবাল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অনিক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবাস পাল। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।