নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে ‘শুটার লেলিনের’ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ৪৬ বছর বয়সী এই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফর রহমান এ তথ্য জানান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল ব্যক্তি হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা দেয়াল টপকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে এবং বেঁধে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর হামলাকারীরা প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা একাধিক সেমিপাকা ঘর, চিকিৎসাসেবা কক্ষ, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে কয়েকটি স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও পরীক্ষাগার কক্ষের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পাশাপাশি দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং তিনটি স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি নয় লাখ টাকা। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের হুমকি দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের জায়গায় একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকা থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ।