
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘিরে সরকার বড় আকারের পরিকল্পনা করলেও অর্থনীতির নানা সংকট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অর্থনীতিবিদরা। মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও বৈদেশিক ঋণ অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পথে হাঁটছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বড় বাজেটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব আহরণ ও অর্থের জোগান নিশ্চিত না হলে এই বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। এজন্য কর ব্যবস্থায় সংস্কার ও এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে বা ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে বাজেট বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে না। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে বড় বাজেটের প্রয়োজন রয়েছে, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোও জরুরি।
অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকার টার্গেটেড সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাজেট ঘোষণা করাই মূল বিষয় নয়; বরং বাস্তবায়ন সক্ষমতা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।