নিউজ প্রবাসী ডেক্স
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন নিহতের ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন খোকন ও রাজীব মাতব্বর। ডিবির দাবি, ২৯ আগস্টের ওই ছিনতাইয়ে তারাই জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ধরে টান দিয়েছিলেন।
এর আগে একই ঘটনায় র‌্যাব-২ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা হলেন রাকিব হোসেন, পনি গাজী ও সেড্রিক জুলিয়ান। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে নতুন তদন্তে ওই তিনজনের রনজিলার মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নতুন দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও সাভারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া এবং রাজীবকে বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগে তার পোশাক, বাসের টিকিটের অংশ, চশমার বাক্স ও ওষুধ ছিল। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
রাজীবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে ডিবি। পুলিশের দাবি, রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকসংক্রান্ত তিনটি মামলা।
ডিবি আরও জানিয়েছে, আগে র‌্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে তুলনা করে ওই মোটরসাইকেলের রং ও ছিনতাইয়ের সময় দেখা মোটরসাইকেলের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডিবি।
ঘটনার দিন ভোরে স্বামীর সঙ্গে অটোরিকশায় করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় সংসদ ভবন এলাকায় রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এতে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
ডিবির দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের পোশাক ও অন্যান্য আলামতও তদন্তে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় একজন ছিনতাইকারীকে দেখেছিলেন এবং পরে তার দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতেও শনাক্তকরণে সহায়তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজনের স্বজনরা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হয়েও ওই তিনজনকে রিমান্ড ও কারাগারে যেতে হয়েছে। তারা এ ঘটনায় প্রতিকারের দাবি করেছেন।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই তিনজনকে সে সময় সন্দেহভাজন হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছিল। ডিবির নতুন তদন্তে কারা জড়িত, তা নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts