নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বিভিন্ন ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১০ম গ্রেডে বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার এবং ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আগে কার্যকর করা হবে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধাও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মোবাইল ভাতার আওতা সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগে এ সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রেডের কর্মচারীরা পেতেন।
অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও নতুন সিদ্ধান্তে বাড়তি সুবিধা পাবেন। তাদের নিট পেনশন আয়ের স্তরভেদে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা তুলনামূলক বেশি হারে সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারি ও সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় ২৪ লাখ কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় উপকৃত হবেন। নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়েই নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।