নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বা স্বজনদের কাছে ফিরে আসা শিশুদের তথ্য অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে বিভ্রান্তি দূর করতেই বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজ হওয়ার জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৬৮ শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এই বয়সী ১ হাজার ৯৭০ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
সব মিলিয়ে সাত মাসে নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ৮৭ শতাংশ উদ্ধার বা ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাকি ১৩ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ৩৮ শিশুকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় ভুল পথে চলে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর কিশোর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক অশান্তি, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং অনৈতিক কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল। তবে ওই তিন বছরে নিখোঁজদের মধ্যে কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা কতজন ফিরে এসেছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts