
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ টানা ৬২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে রয়েছেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা এসব মানুষের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে সীমান্ত এলাকায় তাদের অবস্থান শুরু হয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের একটি উঁচু জমির আইলে আশ্রয় নিয়ে দিন-রাত কাটাচ্ছেন। মাথার ওপর নেই কোনো ছাউনি, নেই পর্যাপ্ত খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।
শনিবার এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। রোববার দুপুরে বিএসএফ আবারও তাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে নারী ও শিশুদের এমন দুর্দশা দেখে তারা মর্মাহত। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সরাসরি সহায়তা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন—এই মানুষগুলো আর কতদিন এভাবে শূন্যরেখায় পড়ে থাকবে?
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুরে আলম বলেন, “মানুষকে এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে ফেরত পাঠাতে হবে। পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার দ্রুত সমাধান না হলে সীমান্তে আটকে থাকা এসব মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।