নিউজ প্রবাসী ডেস্ক  :

স্পেনের পূর্বাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় কয়েকটি শহর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অ্যাডাম’ ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যার পানিতে নদী ও খালের পানি উপচে পড়ছে। অনেক সড়ক প্রবল স্রোতের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দুই বছর আগে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওই দুর্যোগে ২৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।

এবারের বন্যায় নিহতদের মধ্যে উপকূলীয় শহর অলিভায় দুজন, সাগুনতোর একটি সৈকতে একজন এবং কাতালোনিয়ায় খরস্রোতা খালে পড়ে একজন মারা গেছেন।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সোমবার সকালে প্রায় আট লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দেশনা সীমিত করে আটটি পৌর এলাকার প্রায় ৮৭ হাজার মানুষের জন্য বহাল রাখা হয়।

ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা চার শতাধিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি প্রতিনিধি পিলার বের্নাবে। পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির ছাদে আটকে পড়া ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝড়ের প্রভাব পড়েছে ব্যালেরিক দ্বীপপুঞ্জ ও কাতালোনিয়াতেও। এসব এলাকার প্রায় ১০০টি পৌরসভার বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

আলিকান্তের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলস পোবলেতস এলাকায় পানির প্রবল স্রোতে গাড়ি ও ভ্যান একটির ওপর আরেকটি উঠে জমে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বাসিন্দারা ঘরবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেজ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০০৭ সালেও এলাকায় একই ধরনের বন্যা হয়েছিল। সে সময় বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছিলেন; এবারও অনেকে একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

সিভিল গার্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অলিভা এলাকা থেকেই দুই হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলেও পরিচালিত হয়েছে একাধিক উদ্ধার অভিযান। পেগোর মেয়র এনরিক মল জানিয়েছেন, শহরটির কয়েকজন বাসিন্দা তখনো বাড়ির ছাদে আটকে ছিলেন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন। শহরে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট ছিল দেশটির মূল ভূখণ্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল। সেপ্টেম্বর মাসেও তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এমন আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts