নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় পৃথিবীর বাইরে থাকা একমাত্র মার্কিন নভোচারী ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক কালবার্টসন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে নিউইয়র্কের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর আকাশে উঠে থাকা বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখেছিলেন। নাসাও কালবার্টসনের সেই অভিজ্ঞতা ও তোলা ছবিগুলো সংরক্ষণ করেছে।
হামলার দিন কালবার্টসন ছিলেন আইএসএসের ‘এক্সপিডিশন ৩’-এর কমান্ডার। মহাকাশ স্টেশনটি তখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছিল। পৃথিবীতে কী ঘটেছে তা জানার পর তিনি দ্রুত একটি ক্যামেরা নিয়ে নিউইয়র্কের দিকে তাকান।
মহাকাশ স্টেশন নিউইয়র্কের কাছাকাছি অতিক্রম করার সময় তিনি নিচে ম্যানহাটনের দিকে বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখতে পান। পরে নাসার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ধারণ করা ছবিতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা ধোঁয়া স্পষ্ট দেখা যায়।
কালবার্টসন পরে লিখেছিলেন, এত দূর থেকে নিজের দেশের একটি শহর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা ছিল ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মহাকাশযানে বসে পৃথিবীর জীবনকে উন্নত করার কাজ করার সময় একই পৃথিবীতে মানুষের জীবন ধ্বংস হতে দেখা তার জন্য গভীর মানসিক আঘাতের ছিল।
হামলার দিন চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করা হয়। দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং একটি পেন্টাগনে আঘাত হানে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
কালবার্টসন হামলার পরদিন একটি খোলা চিঠিতে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, সেদিনের হামলার পর পৃথিবী বদলে গেছে এবং মহাকাশ থেকে দেশের ক্ষতস্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, কালবার্টসনই ছিলেন ৯/১১ হামলার সময় পৃথিবীর বাইরে অবস্থানকারী একমাত্র মার্কিন নাগরিক। তার সঙ্গে আইএসএসে ছিলেন রাশিয়ার দুই নভোচারী ভ্লাদিমির দেঝুরভ ও মিখাইল টিউরিন।
হামলার পরও আইএসএসের মিশন চলতে থাকে। কয়েকটি কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কালবার্টসন ও তার সহকর্মীরা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে নাসা ৯/১১-এর ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও স্যাটেলাইটভিত্তিক কার্যক্রমেও সহায়তা করে। হামলার স্মরণে স্পেস শাটল ‘এন্ডেভার’-এ প্রায় ৬ হাজার ছোট মার্কিন পতাকা মহাকাশে নেওয়া হয়েছিল, যা পরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য স্মারক হিসেবে দেওয়া হয়।