নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে প্রশাসন। একই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এ ছাড়া চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং ছাত্রদলের তিন নেতাকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম।
সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া তিনজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব এবং ছাত্রদলকর্মী বিশাল চক্রবর্তী।
অন্যদিকে, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল করিম-২ জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে আরিফুল ইসলাম ও রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের উসকানিমূলক ভূমিকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আরিফুলের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এ সুপারিশ করা হয়েছে।
অধিকতর তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদলকর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমান এবং শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। চূড়ান্ত তদন্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মন্তব্য করলে তাঁদের মধ্যে মেসেঞ্জারে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরদিন রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আহসান হাবীব দলবল নিয়ে রাকিবুলকে মারধর করতে পরিবহন মার্কেট এলাকায় যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁদের হাতে হকিস্টিক, টেলিস্কোপিক স্টিক ও পাইপসহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে আরিফুল ইসলামকে খুঁজতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁকে না পেয়ে তাঁর কক্ষে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
ঘটনার পর জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। পরে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।