নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস।

শনিবার রাতে শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আটক চারজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন সাকিবুল হাসান (১৯), সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতি নষ্ট ও বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ১২০খ, ১৫৩ক ও ২৯৫ক ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। রোববার আসামিদের আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করেন একদল তরুণ। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে এক নারীকে প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। পুলিশ তাঁকে বাধা দিলে তিনি ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় আয়াসের নেতৃত্বে দলটি স্লোগানও দেয়।

গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়।

এরপর শুক্রবার ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের প্রতিকৃতি আঁকার যৌক্তিকতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরদিন আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts