নিউজ প্রবাসী ডেস্ক  :

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত সিস্টেমে মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাত্যিয়া নাদেলা। তাঁর মতে, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নাদেলা এ অবস্থান তুলে ধরেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এআই সিস্টেমের নকশা, পরিচালনা ও তদারকিতে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

নাদেলার বক্তব্য অনুযায়ী, অনিশ্চিত আচরণ করতে পারে এমন এআই মডেলকে শক্তিশালী প্রযুক্তিগত কাঠামো, মানুষের তদারকি এবং নির্ভরযোগ্য পরিচালন পদ্ধতির আওতায় রাখতে হবে। প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট না হলে নতুন শিল্পমান তৈরি করার কথাও বলেছেন তিনি।

তিনি আরও মনে করেন, উন্নত ওপেন ও ক্লোজড-ওয়েট—উভয় ধরনের এআই মডেলকেই সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো উচিত।

নজরদারি ও নিরীক্ষায় গুরুত্ব

এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পর্যবেক্ষণযোগ্যতা’ বা অবজারভেবিলিটির নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন নাদেলা। তাঁর প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে মডেলের বহুমুখী সক্ষমতা যাচাই, এআইয়ের কার্যক্রমের পাঠযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষার সুযোগ রাখা।

এ ছাড়া এআইকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পরিচালনা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

নাদেলার বক্তব্যের মূল কথা হলো, শুধু কোনো এআই মডেলের ওপর আস্থা রাখলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বরং এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মডেলের ওপর অন্ধ নির্ভরতা কম থাকবে এবং তার কার্যক্রম যাচাই করার সুযোগ থাকবে।

প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে উদ্বেগ

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করেছেন। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক চাকরি ছেড়েছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তোলেন।

একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের এআই নিরাপত্তা বিভাগের আরেক কর্মকর্তা আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাকে বারবার অমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অবস্থান হলো, এআই শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে। এ খাতের সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারকারীদের দমনে তাঁর প্রশাসন ‘এআই ফোর্স’ নামে একটি উদ্যোগও চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নাদেলার প্রস্তাবে এআইয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনে সিস্টেম বন্ধ করার মতো সুরক্ষাব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts