নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের আড়ালে ৪৬৩ কোটি টাকার বেশি অর্থপাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিউর রহমান খান ও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদারকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
দুদকের কৌঁসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, অর্থপাচারের দায়ে দুজনকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপরাধসংশ্লিষ্ট ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকার দ্বিগুণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ওই জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাঁদের মোট ১২ বছর কারাগারে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী।
রায়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত জরিমানার ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা আদায় না হলে দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই পলাতক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বা সেবা রপ্তানির মাধ্যমে ৬ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২১ ডলার পাচারের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ মামলা করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় পাচার করা অর্থের পরিমাণ ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ দুই কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর গত ৬ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।
রায়ের মধ্য দিয়ে আলোচিত অর্থপাচার মামলায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হলো। তবে দণ্ডিতদের গ্রেপ্তার এবং জরিমানার অর্থ আদায়ের বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।