নিউজ প্রবাসী ডেস্ক:
সাইবার হামলার কারণে উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ৪০টির বেশি সরকারি ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মার্কিন নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেনটিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগে কয়েক দফা অস্বাভাবিক ট্রাফিকের চাপ তৈরি হয়। এর ফলে দেশটির রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশে সমস্যা দেখা দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
কেনটিকের ইন্টারনেট বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক ডৌগ মাডোরি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে উত্তর কোরিয়ার নেটওয়ার্কে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ ট্রাফিক প্রবেশ করতে শুরু করে। ভিয়েতনাম ও ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এই ট্রাফিকের চাপকে তিনি ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল-অফ-সার্ভিস (ডিডিওএস) হামলার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাডোরির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি ওয়েবসাইট অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা এর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ‘ডটকেপি’ ডোমেইনের আওতাধীন ৪০টির বেশি ওয়েবসাইট এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সাইটগুলোর মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএর ওয়েবসাইটও রয়েছে।
তবে দেশটির অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। ফলে বিভ্রাটের সব কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার একটি ত্রুটি প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে ইন্টারনেট সমস্যা দেখা দিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার এই বিভ্রাটের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালের শেষ দিকে দেশটির নেতা কিম জং উনকে কেন্দ্র করে নির্মিত সনি পিকচার্সের একটি চলচ্চিত্র নিয়ে বিতর্কের সময়ও দেশটির ইন্টারনেট পরিষেবা কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।