আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অগ্রগতির কারণে এ ধরনের ত্রুটি শনাক্ত করা এবং সেগুলো কাজে লাগিয়ে হামলা চালানো অপরাধীদের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল। এই ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাকে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ত্রুটি সংশোধনের দায়িত্ব মূলত ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর। সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিজেরা এসব ত্রুটি সারাতে না পারলেও কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তার ঝুঁকি কমাতে পারেন।
অ্যাকাউন্টে বাড়তি নিরাপত্তা
বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্টে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। এ ব্যবস্থায় পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি মোবাইলে পাঠানো কোড বা নিরাপত্তা চাবির মতো অতিরিক্ত যাচাইকরণ প্রয়োজন হয়।
প্রতিটি ওয়েবসাইটে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি। সম্ভব হলে পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি এই ডিজিটাল পরিচয় যাচাইকরণ পদ্ধতি ফিশিং হামলার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ডিভাইস ও অ্যাপ হালনাগাদ রাখুন
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, হোম রাউটার ও অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখা উচিত। সফটওয়্যারের দুর্বলতা সংশোধনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করলে দ্রুত তা ইনস্টল করা প্রয়োজন।
ঘরে ব্যবহৃত স্মার্ট ডিভাইস বা ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) যন্ত্রের নিরাপত্তাও উপেক্ষা করা যাবে না। কোনো ডিভাইসে নিয়মিত আপডেট না এলে সেটির প্রস্তুতকারক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা হালনাগাদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।