পাবনার আতাইকুলা উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটে সশস্ত্র হামলায় হাটের ইজারাদার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের নেতা আব্দুস সালামসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে হাটের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হাটের ইজারা ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
নিহত অপর ব্যক্তি হলেন ধর্মগ্রাম এলাকার উমেদ আলী মেম্বারের ছেলে রিপন (৩৮)। আব্দুস সালামের বয়স ৫০ বছর।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা প্রদীপ কুমার সাহা জানান, সালাম ও রিপন হাটের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাঁরা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। ঘটনার পর হাটজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সালাম পাবনার চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আবুল কালামের ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি হাটটির ইজারা পান বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
হাটের ইজারা নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে সালামের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালেও পুষ্পপাড়া হাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই হাটে আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।