নিউজ প্রবাসী ডেস্ক:

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল। এ সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলার দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর ও সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরেই এসব এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। সোমবার সকালেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে নামেন। কয়েকটি এলাকা থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও দুপুর পর্যন্ত কিছু স্থানে বিক্ষোভ চলতে থাকে।

এ সময় নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি এবং সফিপুরে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ, বিজিবি ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেলও ছোড়া হয়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক ও বিজিবির এক সদস্য আহত হন।

অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় সোমবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করেন মালিকপক্ষ। দুপুরের পর পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, দুপুর থেকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts