আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ও বিভিন্ন আসনের পূর্বাভাসে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন পুনরুদ্ধার করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে রয়েছে দলটি। তবে উচ্চকক্ষ সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোটগ্রহণ হয়। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাচনের ফলের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হচ্ছে।

সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২০৮টি এবং রিপাবলিকানরা ১৬০টি আসনে জয় পেতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। এখন পর্যন্ত রিপাবলিকানদের কাছ থেকে চারটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কয়েকটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

এদিকে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলটির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। টেক্সাসেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অঙ্গরাজ্য কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আসন হারানোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম।’ এর আগে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও তাঁর হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসতে দেখা গেছে।

ভোটগ্রহণ চলাকালে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিঘ্ন ঘটে। ফ্লোরিডায় আকস্মিক বন্যার কারণে ২১টি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়। নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়ার কয়েকটি এলাকায়ও ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে দলটি বাড়তি ক্ষমতা পাবে। তবে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে আরও কয়েকটি আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts