
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা, কথিত ‘হেয়ারকাট’ নীতি এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫ এর আওতায় এনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের সম্পদ ও দায় নতুন ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, অনেক গ্রাহক এখনও চাহিদামতো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া তারল্য সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
সংসদে আলোচনায় কথিত ‘হেয়ারকাট’ বা মুনাফা কর্তনের বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংক মুনাফা অর্জন করলে আমানতকারীরা মুনাফা পাওয়ার অধিকারী হন। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মুনাফা না করলেও গ্রাহকদের জন্য ৪ শতাংশ হারে ‘এহসান’ প্রদান করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল পুনর্বিন্যাস এবং শাখা একীভূতকরণের কাজ চলমান রয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এছাড়া সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ।