নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তাকে শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা।
একই সঙ্গে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই রবিউল পলাতক ছিলেন। নিহত জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের চাচা মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার বিকেলে জান্নাতুলের বাবা স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল জান্নাতুল। এ সময় প্রতিবেশী রবিউল তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রবিউলের ঘরের মেঝেতে কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় রবিউল একাই ঘরে ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসিফ আকবার জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।