নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সরকারি গুদামে চালের মজুদ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামগুলোতে ২০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টন চালসহ মোট ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুদের পরিমাণ গত বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ খাদ্য মজুদ ছিল ২২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টন।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণভাবে ধান-চাল সংগ্রহ এবং আমদানি বাড়ানোর ফলে মজুদে এই রেকর্ড হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমও চলছে। ইতোমধ্যে ধান সংগ্রহে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে রেকর্ড মজুদ থাকলেও বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, সাধারণত এ সময়ে চালের দাম বাড়লেও এবার তা স্থিতিশীল রয়েছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, চালের দাম কমেনি ঠিক, তবে বাড়েনিও। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। দাম বেশি কমে গেলে কৃষক ধান চাষে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, প্রতি বছর এ সময়ে চালের দাম বাড়লেও এবার তা বাড়েনি—এটিই ইতিবাচক দিক। সামনে আমন ধান বাজারে না আসা পর্যন্ত চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার তদারকি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সরকারি হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টনের বেশি খাদ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ৩০ হাজার ৭৩০ টন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুদ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।