যশোর প্রতিনিধি :
পর্তুগালে মারা যাওয়া যশোরের ইছালীর প্রবাসী তরুণ আব্দুল্লাহ আল জিহাদের (২৫) মরদেহ দেশে ফিরতে আরও দুই দিন সময় লাগছে। মরদেহ ২৪ আগস্টের ফ্লাইটে দেশে আসার কথা থাকলেও বুকিংয়ের তারিখ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট মরদেহটি দেশে পাঠানোর জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছে। ফলে ২৬ অথবা ২৭ আগস্টের মধ্যে মরদেহ দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে পরিবার।
জিহাদের মামা জানান, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য ২৪ আগস্ট বুকিং দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি এভাবেই বুঝেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী নিজেও ২৪ আগস্ট দেশে ফেরার বিমানের টিকিট করেন। পরে বাংলাদেশে এসে পর্তুগালে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, জিহাদের মরদেহের বুকিং আসলে ২৬ আগস্ট করা হয়েছে।
এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফেরানোর নতুন সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এখন ২৬ আগস্ট মরদেহ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ফ্লাইটের সময়সূচি অনুযায়ী মরদেহ ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট দেশে পৌঁছাতে পারে।
এর আগে জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, তাঁর মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো পর্তুগালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জিহাদ যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইছালী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা রেজাউল হকের একমাত্র ছেলে। তাঁর দাদা ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী।
জিহাদের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইছালীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাঁর বাবা-মা ও দুই বোন শোকে মুহ্যমান। মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, জিহাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করা হোক। যদি তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts