নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে আটা ও ময়দার দাম বাড়ার পর এবার তেল ও চিনির দামও ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিমের দামও চড়া রয়েছে। কিছু পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগও করছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে ময়দার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি ময়দা ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা আগে ছিল প্রায় ১৪০ টাকা।
প্যাকেটজাত আটার দামও বেড়েছে। এক মাস আগে ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন প্রতি কেজি আটা কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭০ টাকা।
ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আপাতত প্রতি লিটার ২০০ টাকা থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল কিনতে অনেক ক্রেতাকে একাধিক দোকানে খোঁজ করতে হচ্ছে।
চিনির দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ডিমের বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। গত মাসে ডজনপ্রতি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডিম এখন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি কুমড়া কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনও চড়া, প্রতি কেজি ১২০ টাকা।
এদিকে আমদানির কারণে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। একসময় কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকায় পৌঁছানো কাঁচামরিচ বর্তমানে খুচরা বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।