নিউজ প্রবাসী ডেক্স  :

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখলেও বিপুল খরচ ও আর্থিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহীদের বড় একটি অংশ এখন স্কলারশিপের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন। কেউ আবার খরচ ও ভিসা জটিলতার কারণে পছন্দের দেশ পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক ‘আইডিপি স্টাডি ওয়ার্ল্ড রোডশো’তে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসব কথা জানান। আয়োজনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন একাধিক শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, সেখানে পড়াশোনার ব্যয় কয়েক দশ লাখ টাকা থেকে প্রায় কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে পরিবারের পক্ষে পুরো খরচ বহন করা কঠিন হওয়ায় অনেকেই পূর্ণ বা আংশিক শিক্ষাবৃত্তির সন্ধান করছেন।
যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন, সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে স্কলারশিপ ছাড়া বিদেশে পড়াশোনা করা কঠিন। অন্যদিকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী খরচ, ব্যাংক হিসাবের শর্ত এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বিকল্প গন্তব্য নিয়ে ভাবছেন।
তুলনামূলক কম ব্যয়ের কারণে মালয়েশিয়ার মতো দেশও অনেক শিক্ষার্থীর আগ্রহের তালিকায় রয়েছে। কেউ কেউ ফাউন্ডেশন কোর্স শেষে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করে ভবিষ্যতে অন্য দেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন।
মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ ও ভিসার শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা জরুরি। অনেকেই এ বিষয়ে অভিজ্ঞ পরামর্শকদের সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
অভিভাবকদের কাছেও শুধু খরচ নয়, সন্তানের নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, কোর্স নির্বাচন এবং কোন দেশে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে ভালো সুযোগ তৈরি হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে চলা এই রোডশোতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। অনেকে পাসপোর্ট ও শিক্ষাগত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে বিদেশে ভর্তি ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও পরামর্শ নেন। আয়োজনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্টলে তুলনামূলক বেশি আগ্রহ দেখা যায়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা বাড়লেও বাস্তবতা হলো—বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক সক্ষমতা ও স্কলারশিপের সুযোগই এখন স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *