নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের অভিযোগেও অতিরিক্ত তিন বছরের সাজা
ঢাকার কদমতলীতে অটোরিকশাচালক ইমন কাজীকে হত্যার ঘটনায় আল-আমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম জানান, হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি আসামিকে হত্যার আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের অপরাধে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আল-আমিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১২ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন কাজী। ওই রাতেই গেন্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ এলাকার মামুর বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে তার অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ইমনের বাবা লিটন কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর, ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগ এলাকার সোনামাবিয়া মসজিদসংলগ্ন ঝোপের ভেতরে একটি ডোবা থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। ঘটনার পর আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পরকীয়ার সন্দেহ এবং পাঁচ হাজার টাকা ধার দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ইমনকে নিজের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আল-আমিন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাসায় নেওয়ার পর ইমনকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করা হয়। পরে রিকশাযোগে নিয়ে গিয়ে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের পরিদর্শক রোকনুজ্জামান খাঁন আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচারকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে সোমবার আদালত এ রায় দেন।