নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলে সেখানে জড়ো হন শ্রমিকরা। এ সময় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যায়।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ছাঁটাইয়ের নোটিশ প্রধান ফটকে টানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ কারণে বিভিন্ন বিভাগ, ডিভিশন ও সেকশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই কার্যকর হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী সব পাওনা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বর্তমানে ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এদিকে যেসব শ্রমিকের চাকরি এখনো বহাল রয়েছে, তারা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাবেন বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কারখানার সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মহানগর পুলিশের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।