নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন করিডরের মানচিত্রসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ঘোষণার সময় এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের সীমা থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা বিস্তৃত হতে পারে। এ এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ি বলেন, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর থেকে নৌ-অবরোধের সীমা পর্যন্ত সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দেশটির সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেজায়ি সম্ভবত ‘কাসেম বসির’ নামের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরানের গণমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের জাহাজগুলো ওই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
কাসেম বসিরকে ইরান উন্নত প্রযুক্তির একটি ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। দেশটির দাবি, এর গতিপথ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের প্রভাবও কম পড়ে।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যেও ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশটি বর্তমানে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় জলসীমায় নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে নতুন কোনো সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।