নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ছোট ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের সভায় অভিযোগপত্র দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
একটি মামলায় হারুন অর রশীদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তার নামে ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বৈধ উৎসে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। ফলে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।
দুদকের অভিযোগ, পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হারুন এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা আড়াল করতে নগদ অর্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং সম্পদ স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অপর মামলায় হারুনের ছোট ভাই এ বি এম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি এবং হারুনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। তদন্তে শাহরিয়ারের ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহরিয়ারের আয়, ব্যয় ও সম্পদ বিশ্লেষণ করে তার বৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সক্ষমতা ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ১৩০ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক। সেই হিসাবে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য, দুই ভাই পরস্পরের যোগসাজশে সম্পদের অবৈধ উৎস ও মালিকানা গোপন করতে সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও অর্থের স্তরায়ণের মতো কর্মকাণ্ড করেছেন।
তদন্তে হারুনের নামে দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটিতে পাঁচ কাঠার প্লট, বনানীতে জমি ও ভবন, উত্তরায় বাড়ির অংশ এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে জমির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন অস্থাবর সম্পদের তথ্যও রয়েছে।
শাহরিয়ারের সম্পদের মধ্যে সাভার, রূপগঞ্জ, গুলশান ও অষ্টগ্রামে জমি এবং একটি রিসোর্ট ও কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি হারুনের কাছ থেকে হেবা হিসেবে পেয়েছিলেন শাহরিয়ার। দুদকের অভিযোগ, ওই সম্পদ হারুনের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে দেওয়া হয়েছিল।
দুই মামলায় হারুন ও শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এখন অনুমোদিত অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের পর মামলাগুলোর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts