নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ময়দা, চিনি, তেল ও ডালডাসহ বেকারি পণ্য তৈরির বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়ায় শনিবার থেকে রুটি, পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম সমন্বয় করতে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন রিকশাচালক, দিনমজুরসহ স্বল্প আয়ের মানুষ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চা দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, চায়ের সঙ্গে বনরুটি, পাউরুটি বা কেক খেয়ে ক্ষুধা মেটান অনেক খেটে খাওয়া মানুষ। এসব পণ্যের দাম বাড়লে তাদের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়বে।
বেকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক বছরে উৎপাদনের প্রধান কাঁচামালগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ৫০ কেজি ময়দার বস্তা বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা।
একই সময়ে ৫০ কেজি চিনির দাম প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। ১৮৫ কেজির সয়াবিন তেলের ড্রামের দাম বেড়ে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে উঠেছে। ১৬ কেজির এক কার্টন ডালডার দামও বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাস না পাওয়ায় অনেক বেকারিকে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি জানিয়েছে, শনিবার থেকে নতুন দামে বনরুটি ও বিস্কুট বিক্রি শুরু হবে। তবে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না। কিছু কম দামের পণ্যের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত রেখে ওজন কমানো হবে।
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়িক বাস্তবতায় কিছু পণ্যের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকা দামের কিছু পণ্যে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ১২ টাকার কেকের দাম ১৫ টাকা হতে পারে।
তিনি জানান, ১০ টাকা দামের বনরুটির দাম একই রাখা হলেও এর ওজন কমানো হবে। একইভাবে ৪০০ গ্রাম ওজনের পাউরুটির ওজন কমিয়ে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রাম করা হতে পারে। আর দাম বাড়ানো হলে পাউরুটির ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭ হাজার ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বেকারি পণ্যের প্রায় সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ফলে ব্যবসা চালু রাখতে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বাড়তি দাম যৌক্তিক কি না, সেটি দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
এদিকে রিকশাচালক ও চা দোকানিরা বলছেন, আয় না বাড়লেও খাবারের খরচ ক্রমেই বাড়ছে। বেকারি পণ্যের দাম আরও বাড়লে স্বল্প আয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।