নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা হবে মঙ্গলবার।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন নির্ধারণ করে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। �
bdnews24.com
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাত আসামিকেই পলাতক দেখিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান শুনানিতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে আসামিরা নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বক্তব্য এবং সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিওর বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, এসবের মাধ্যমে আন্দোলন মোকাবেলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের খালাস চেয়েছেন। তাদের দাবি, আসামিরা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি এবং আন্দোলন দমনে তাদের সরাসরি কমান্ডিং ভূমিকা ছিল না।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহানও তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই দাবি করে খালাস চান।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। �