নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ১৪০ দফার যৌথ ঘোষণা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পরস্পরবিরোধী অবস্থানের দেশগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে আলোচনার সুযোগ তৈরি করাও এবারের সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে ২০০৬ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়। সাম্প্রতিক সম্প্রসারণের পর জোটে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াও যুক্ত হয়েছে। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি বড় কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে ব্রিকস।
এবারের সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে সর্বসম্মতভাবে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ। ৪৫ পৃষ্ঠার ওই ঘোষণায় ১৪০টি দফায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জলবায়ু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও সম্মেলন থেকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি ব্রিকসের মধ্যে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি ও আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করেন। ব্রিকসকে আরও শক্তিশালী ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে সম্মেলনে।
তবে ব্রিকসের ভেতরে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ছিল ভিন্ন। এ পরিস্থিতিতে যৌথ ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের বাইরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই যোগাযোগকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের বড় শক্তি হলো ভিন্ন স্বার্থ ও মতাদর্শের দেশগুলোকে একই টেবিলে আলোচনার সুযোগ করে দেওয়া। এবারের সম্মেলনে সেই সক্ষমতাই নতুন করে সামনে এসেছে।
সম্মেলনের শেষে ২০২৭ সালের ব্রিকস চেয়ারম্যানশিপ চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী বছর জোটটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts