নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আগুনের আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করলেও হাসপাতাল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত জানানো হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলার লিফট নিয়ন্ত্রণকক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় একটি সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে অনেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
স্বজনদের দাবি, ওই সময় সিঁড়িতে পড়ে কুলসুম আক্তার (৩৫) ও শাহাজাহান মনির (৪৫) মারা যান। তাদের মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলেও জানান তারা।
কুলসুম আক্তারের স্বজন নাজমা আক্তারের ভাষ্য, কুলসুম ১২ দিন ধরে জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। আগুন লাগার পর সন্তানদের নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন নাজমা।
অন্যদিকে শাহাজাহান মনিরের ছেলে পলাশ মোল্লা বলেন, আগুন লাগার সময় তার বাবা, মা ও খালা সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন। পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তারা পড়ে যান। পরে তার বাবা মারা যান বলে তিনি জানান।
তবে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির সরকার জানিয়েছেন, পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ প্রশাসন পায়নি। হাসপাতালের রেজিস্টার, চিকিৎসক, নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তালিকায় মৃত হিসেবে থাকা একজন জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও দুজনের মৃত্যুর কারণও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে আগুনের পর প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন ও ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি কমিটিতে রয়েছেন।
কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগুন লাগার কারণ, কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, অষ্টম তলার লিফট নিয়ন্ত্রণকক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।