নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তারের পর ছাত্রনেতা মো. রাশেদ খাঁনকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জুলাই ভাসানটেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে এবং মুখে গামছা দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তার দাবি, ওই মামলার বিষয়ে গ্রেপ্তারের আগে তিনি অবগত ছিলেন না।
তার অভিযোগ, ১৫ দিনের রিমান্ডে থাকার সময় তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কারাগারেও কষ্ট দেওয়া হয়। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও কয়েকজনকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ জানান, চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শে তিনি থানায় মামলা করার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি পরবর্তী সময়ে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে এসেছে। এসব অভিযোগ পর্যালোচনায় একই ধরনের ঘটনার একটি ধারাবাহিকতা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাশেদ খাঁনের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামে আরেক ব্যক্তিকে অপহরণ, হেফাজতে রাখা, হত্যা ও গুমের অভিযোগের কথাও জানান তাজুল ইসলাম। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় ইশতিয়াক আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগে শেখ হাসিনার নাম যুক্ত আছে কি না—এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নামও যুক্ত হতে পারে।
অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts