নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া কাগজপত্র ও কর্মসংস্থান পাস তৈরির অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘অপস সেরকাপ’ নামে অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার জালান চান সো লিনের বাণিজ্যিক এলাকায় একযোগে ১১টি স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১০ পুরুষ ও এক নারীকে কথিত জাল নথি তৈরির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্য ১৬ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। একই অভিযানে মিয়ানমারের একজন ও ইন্দোনেশিয়ার দুই নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক ভুয়া ইলেকট্রনিক অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস (ই-পিএলকেএস) ও পুলিশ প্রতিবেদনের কপিও উদ্ধার করা হয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ভুয়া ই-পিএলকেএস প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং কথিত ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ও নথিপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা চলার মধ্যেই এ অভিযান সামনে এলো। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপের পর দুই দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার আওতায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই এজেন্সিগুলো ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। নির্ধারিত খরচের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ গুণ পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts