নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, চুক্তি নবায়ন নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক বা আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ হয়েছে কি না।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, পানিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত থাকবে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়।
চুক্তিতে ৪০ বছরের গড় প্রবাহের ভিত্তিতে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানির সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহের নিশ্চয়তাও রয়েছে।
৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে চুক্তিটি নবায়ন না করার দাবি তুলেছেন ভারতের বিহারের ক্ষমতাসীন জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমারও দাবি করেছেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন বিজয় কুমার।
তবে চুক্তিটি নবায়ন হবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ। গত ৯ জুলাই এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গঙ্গা চুক্তি ও গঙ্গার পানির গুরুত্ব ভারত বিবেচনায় নেবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।